যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ৪০ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। এই হামলা ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর উপর পরিচালিত হয় এবং এতে ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছে।
হামলার উদ্দেশ্য হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এটি ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে একটি ‘সরকার পরিবর্তনের সুযোগ’ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার বিষয়ে বলেন, “আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে হবে।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে, ইরান সরকার তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, “আমরা আমাদের দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস করব না।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। তারা বলছেন, ইরান যদি প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রাইসি হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা এই ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
এদিকে, হামলার পর ইরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মহড়াগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি অংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে।