ভারত থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না শেখ হাসিনা, জানাল মোদী সরকার

ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর ভারতের মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে মোদী সরকার

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে যে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন এবং এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন। তিনি নয়া দিল্লি থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন।

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আশ্রয় দেওয়া হলেও, ভারতের ভূখণ্ড থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপে মান্যতা না দেওয়ার নীতিতে ভারত দায়বদ্ধ।

কমিটি সরকারকে গঙ্গা-তিস্তা চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের স্বার্থ বিবেচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং এই বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করার সুপারিশ করেছে।

শেখ হাসিনা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তিনি আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল ইতিমধ্যেই গণহত্যার দায়ে তার ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র-গণ অভ্যুত্থান, যা তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। এই অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের রায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ভারত তার নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এটি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিহাসে শেখ হাসিনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, যা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কার্যকলাপ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে।

ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লিগের অনেক নেতা-নেত্রী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, যদিও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারে। তার আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *