অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যায় ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারত ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। ৩০ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি এ অভিযোগ তোলে এবং বলে, যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপটে এমন সরবরাহ গভীর উদ্বেগের বিষয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গাজায় চলমান হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ভারতের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের কাছে সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়নি। অ্যামনেস্টির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সরবরাহ কেবল বিচ্ছিন্ন লেনদেন নয়; বরং তা একটি ধারাবাহিক সম্পর্কের অংশ, যা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতাকে সমর্থন জোগাতে পারে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরও জানায়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ভারত ঘনিষ্ঠ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে, এই অংশীদারিত্ব শুধু বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
৩০ জুলাই আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটি এ বিষয়গুলো তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতার মধ্যে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
অ্যামনেস্টির অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই আশঙ্কা যে, সরবরাহ করা অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম গাজায় চলমান অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে। সংস্থাটি মনে করে, এমন ঝুঁকি বিদ্যমান থাকলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।
ভারত ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত কয়েক বছরে দৃশ্যমানভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অ্যামনেস্টির এই অভিযোগ সেই সম্পর্ককে নতুন করে আন্তর্জাতিক নজরে এনেছে, বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে।