মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিলে আবুল কালাম আযাদ

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইবুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন, আর তার সেই আপিল সোমবার (১০ আগস্ট) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রয়েছে। ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

পলাতক থাকা অবস্থায় দেওয়া ওই রায়ে আবুল কালাম আযাদকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল আযাদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই সাবেক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিচার চলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। তখন জানা যায়, আপিল করার শর্তে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি; এরপরই তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন। সেই প্রক্রিয়া শেষে তার আপিল এখন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় উঠেছে।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউল আলম২১ জানুয়ারি তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২০১৩ সালে এখান থেকে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছেন, সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করে আপিল ফাইল করার শর্তে।’

একই দিন তিনি আরও বলেন, ‘২২ অক্টোবর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজকে এসে আত্মসমর্পণ দিলাম। আদেশে বলা হয়, সারেন্ডার গ্রহণ করা হয়েছে আর ওনাকে আপিলের জন্য কাগজপত্র দেওয়া হোক। উনি যেভাবে আছেন থাকবেন।’

আবুল কালাম আযাদের মামলাটি বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ স্বাধীনতার ৪১ বছর পর এই মামলাতেই প্রথম রায় দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এখন তার খালাস চেয়ে করা আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *