বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়াতে সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক সব লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) বা আন্তঃব্যাংক চার্জ শূন্য করার ঘোষণা দিয়েছে এবং একই সঙ্গে ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের উৎসাহ দিতে প্রণোদনা চালুর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এ বিষয়ে জারি করা সার্কুলারে সব ব্যাংক, মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটরকে নির্দেশনা পরিপালনের কথা বলা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্টের পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ বাবদ কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে না ব্যাংক। অর্থাৎ একজন গ্রাহক কোনো দোকানে বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে ১,০০০ টাকা পরিশোধ করলে, সেই লেনদেনে গ্রাহকের ব্যাংক ও মার্চেন্টের ব্যাংকের চার্জ বাবদ কোনো টাকা কাটা হবে না।
এর আগে গত ১ জুলাই বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্টে ভ্যাটসহ সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে লেনদেনে অতিরিক্ত চার্জের কারণে বাজারের লেনদেনে প্রভাব না পড়া এবং অংশীজনদের দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
একই দিনে জারি করা আরেকটি সার্কুলারে পণ্য বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের বিপরীতে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণের ০.১০% হারে, অর্থাৎ হাজারে ১ টাকা, পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে এবং ০.২০% হারে, অর্থাৎ হাজারে ২ টাকা, মাসিক ভিত্তিতে কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
বাংলা কিউআর-এর সব লেনদেনে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতেই বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে এই নতুন সুবিধা চালু করা হয়েছে।
প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো লেনদেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে প্রণোদনা নেওয়া যাবে না; একইভাবে ব্যর্থ, বাতিল, রিভার্স, রিফান্ড, চার্জব্যাক বা বিতর্কিত লেনদেনের বিপরীতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হবে না।
কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে হবে। কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাটির অপব্যবহার ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট লেনদেন, মার্চেন্ট, নিষ্পত্তি এবং প্রণোদনার রেকর্ড যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুল বা অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়া হলে তা ফেরত নেওয়া হবে, অথবা পরবর্তী প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মার্চেন্ট পেমেন্ট সহজ করা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আনা এবং একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃসংযুক্ত (ইন্টার-অপারেবল) ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক এই নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা কিউআর ব্যবহারে খরচের বাধা কমিয়ে বাজারে ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত করার পথ তৈরি হলো।