ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় রোববার দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এ কারণেই তার কোনো অডিও বার্তা প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে দৈনিক আল-মাশহারি। পত্রিকাটি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, একটি অডিও রেকর্ডিং থেকে অন্তত পাঁচটি উপায়ে বক্তার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। এই ঝুঁকির কারণেই খামেনির রেকর্ড করা বার্তাও প্রকাশে অনীহা দেখানো হচ্ছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রিকার ব্যাখ্যায়, প্রতিটি ঘরের নিজস্ব একটি শব্দগত বৈশিষ্ট্য থাকে। সেই বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বক্তা ঠিক কোন ধরনের কক্ষে ছিলেন, সে সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের বৈদ্যুতিক সংকেত বিশ্লেষণ করেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে রেকর্ডিংটি ঠিক কখন করা হয়েছে এবং সেটি কোন বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় তৈরি হয়েছে, তা নির্ধারণের সুযোগ থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি মাইক্রোফোন ও রেকর্ডিং যন্ত্র অডিওতে আলাদা ধরনের প্রযুক্তিগত ছাপ রেখে যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, মোবাইল ফোনের মাইক্রোফোন সাধারণত নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দ দুর্বল করে ফেলে, আর স্বল্পমূল্যের যন্ত্রাংশ বিশেষ ধরনের বিকৃতি সৃষ্টি করে, যা সংশ্লিষ্ট যন্ত্র শনাক্তে সহায়ক হতে পারে।
আল-মাশহারি আরও দাবি করেছে, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, জেনারেটর, কুলিং সিস্টেম বা আশপাশের অন্যান্য যন্ত্রপাতির শব্দও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রেকর্ডিংয়ের স্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ, মূল বক্তব্যের বাইরে পটভূমিতে থাকা যান্ত্রিক শব্দও অবস্থান নির্ধারণে সূত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
সবশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়, কণ্ঠস্বরের অনুরণন বিশ্লেষণ করে বক্তার শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন, শব্দের মাঝের বিরতি, শারীরিক অবস্থা, হৃদস্পন্দন এমনকি মানসিক চাপের মাত্রা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। এ ধরনের বিশ্লেষণ শুধু অবস্থান নয়, বক্তার তাৎক্ষণিক শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও তথ্য দিতে পারে বলে পত্রিকাটি দাবি করেছে।
এই ব্যাখ্যাগুলোর মাধ্যমে ইরানি সংবাদমাধ্যমটি বোঝাতে চেয়েছে, অডিও বার্তা প্রকাশ এখন কেবল প্রচারগত বিষয় নয়, বরং নিরাপত্তা ঝুঁকির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। সেই কারণেই মোজতবা খামেনির কোনো অডিও বার্তা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।